✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি দেশে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির আনুমানিক তীব্রতা ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূটানের পুনাখা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে। মাটির তলদেশে হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনের ফলে ভূটান ছাড়াও এর পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে।
এই ভূমিকম্পের ফলে কম্পন অনুভূত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে— বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, ভূটান ও চীন। মাঝরাতের এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পের কারণে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা এ প্রসঙ্গে বলেন, “রংপুর বিভাগে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আমরা বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করছি।”
ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠেছে দেশের সীমান্তবর্তী দুই জেলা ঠাকুরগাঁও ও সিলেটসহ আশপাশের এলাকা। রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিট থেকে ১১টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। আকস্মিক ও তীব্র এই ঝাঁকুনিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আকস্মিক এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলার মানুষ। অ্যালার্ট সিস্টেমের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে অনুভূত হওয়া কম্পনের আনুমানিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ এবং জেলা শহর থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব ছিল প্রায় ১৩৮ মাইল (২২২ কিলোমিটার)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে ঘরের দরজা-জানালা, খাট-বিছানা ও অন্যান্য আসবাবপত্র তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে জেলার কোথাও কোনো হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকা তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে। হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভবনগুলো দুলে উঠলে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বহুতল বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দ্রুত রাস্তায় বের হয়ে আসেন।
সিলেট নগরের জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, সুবিদবাজার, উপশহর, টিলাগড় ও শাহপরানসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভবের কথা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
