✍︎ সাভার প্রতিনিধি ✍︎
সাভারের পূর্ব শাহিবাগ এলাকার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পর্যায়ক্রমে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান।
তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় গত ২৬ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা (নং-১১০) দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলো— গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বড়াইবাড়ি এলাকার দেওয়ান আবু রায়হানের ছেলে তাহমিদ হাসান রাফি (১৫), বরগুনার বেতাগী থানার সুবিদখালি এলাকার মো. পলাশের ছেলে মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম (১৩), জামালপুর সদর থানার মাটিখোলা মৈমুনা এলাকার মুক্তারের ছেলে মোহাম্মদ বিন মুক্তার (১২), ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার নয়আনী এলাকার মো. কাবুলের ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২১) এবং সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার কালিকাপুর এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম (২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনায় মামলার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে ঢাকা জেলা পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সাভার ও আশুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বড়াইবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মামলার প্রধান আসামী তাহমিদ হাসান রাফিকে, বরগুনার বেতাগী এলাকায় নানার বাড়ি থেকে মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েমকে, সাভারের চাপাইন তালতলা এলাকায় বাবার ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ বিন মুক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে মো. কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেফতার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই শিক্ষককে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার ৩ শিক্ষার্থী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদেরকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার কিশোর সংশোধন কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। পরে আদালতে আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার ওই মাদ্রাসার ৫ জন ছাত্র, ৪ জন শিক্ষক ও পরিচালককে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিচার না করে ভুক্তভোগীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে বাকি তিনজন শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে।
