✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে একটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই সন্দেহভাজন কিশোরসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মসজিদের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীসহ তিন মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সান দিয়েগো পুলিশ জানায়, হামলাকারী দুই কিশোরকে একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের বয়স ১৭ ও ১৯ বছর।
সান দিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, মসজিদটিতে পরিচালিত ডে-স্কুলের সব শিশু নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের সবাইকে খুঁজে পাওয়া গেছে।
পুলিশ এটিকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ হামলার পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্তে এফবিআই সহায়তা করছে।
মেক্সিকো সীমান্তে এই ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগো এখানকার সবচেয়ে বড় মসজিদ।
ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আগে কখনো এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
সান ডিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় ওই মসজিদের অবস্থান। এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। ইসলামিক সেন্টারটিতে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে শিশুদের ইসলামি বিদ্যালয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ১৭ বছর বয়সের ওই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের গাড়িটিও নেই। সেই সঙ্গে কয়েকটি অস্ত্র খোয়া গেছে।
পুলিশপ্রধান বলেন, বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা দেখে প্রাথমিক তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন, ওই কিশোর অন্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কেননা, আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটি অস্ত্র নেবে না।
মায়ের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া এবং ‘বড় পরিসরে’ হুমকির বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশ ওই ‘নিখোঁজ কিশোর’কে (১৭ বছর বয়সী) খুঁজছিল বলেও জানান সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান।
স্কট ওয়াহল বলেন, ওই মা পরে তাঁর ছেলের রেখে যাওয়া একটি ‘চিরকুট’ (সুইসাইড নোট) খুঁজে পাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।
পুলিশপ্রধান স্কট বলেন, চিরকুটে কী লেখা রয়েছে, তা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।
সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর বিস্তারিত পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। এমনকি গুলির ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।
স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীদের পরিবারকে জানিয়েছি। এখনই তাঁদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।’
ইসলামিক সেন্টারটির বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের সবাই এ ঘটনায় অক্ষত আছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। তথ্য জানানোর জন্য একটি বিশেষ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
