ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৩ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

আয়োজনে জরিপের সারসংক্ষেপ ও লার্ভার উৎস সম্পর্কে জানানো হয়। ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, আগামী ৬ জুন ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরে অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৩ দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

জরিপে বলা হয়, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। স্থাপনার ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। পানির উৎস অনুযায়ী মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং অন্তত তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এসব জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়-

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ১৫, ১৭, ২০, ২১, ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১৩, ২৩,২৪ ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬, ৫৭,৩২, ৩৬, ৩৮, ৭, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড।

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ১৯, ১, ৩, ১০, ১২, ১৪, ২২, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৪২, ৪৩, ৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫৩, ৭০, ৭৪, ৭১, ৭২, ৬৬, ৬৭, ৬৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১ নম্বর ওয়ার্ড।

সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১৬, ১৮, ৮, ২৭, ৩৭, ৪১, ৪৮, ৫৪, ৭৫, ৬৯, ৬৩, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, আগামী ৬ জুন ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *