✍︎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ✍︎
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় পুশইনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে সহযোগিতার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ এ তথ্য জানান।
আটককৃতরা হলেন—গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে আলম (৩৮), কালু সর্দ্দারের ছেলে আজম (৩৫), মৃত নাইমুলের ছেলে আসমাউল হক (৩০), ধলুর ছেলে মো. মেজবাউল (৩০), রোকনপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত দোস মোহাম্মদের ছেলে বাবুল আক্তার (৪০), রোকনপুর নেতারপাড়ার আব্দুল লতিফের ছেলে এমদাদুল হক মিন্টু (৩৮) এবং রোকনপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত ওবাইদুর রহমানের ছেলে রয়েল (২৬)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, বিজিবি পুশইনে সহায়তাকারী হিসেবে চারজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। পরবর্তীতে একই ঘটনায় থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট সাতজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে থানায় আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা রাতে নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি টহল দলের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুশইন প্রতিহত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতা ও বিজিবির তীব্র প্রতিরোধে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
পরপর পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং টহল ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষায় তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বিজিবি। এছাড়া রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যবহার করা হচ্ছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্ত এলাকাটি কাঁটাতারবিহীন (তারবেঁড়াবিহীন) হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ বারবার এভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।
তারও আগে, গত ৪ জুন ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা শূন্যরেখায় তিন দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যায়।
