প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পাননি ৮১৭ জন, যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি আছে। এদিকে ভেরিফিকেশনে উত্তীর্ণদের মধ্যে কেউ কেউ বাদ পড়ছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে। তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। যাচাই শেষে কতজন নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন, তা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, কেউ কেউ বাবার কাছে-মায়ের কাছে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু ইট ওয়াজ নট ফাইনাল। আমি দেখেছি কিছু কিছু মিডিয়া বিভ্রান্তিকর নিউজ দিয়েছে, তাতেই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কেউ ক্ষতিয়ে দেখেননি যে বিষয়টি কোথায়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে এ বিষয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভেরিফিকেশন সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৬৯ হাজার জনের কাছাকাছি। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ হাজার ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র। সে সময় দেখা গিয়েছে তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টিয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এর মাঝে বিভিন্ন মিডিয়া এটাকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার শুরু করেছে। একটি প্রতিবেদন আমরা দেখেছি, অত্যন্ত হৃদয়বিদারক মনে হয়েছে, যেন এ বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। অথচ আমরা ফাইনাল চিঠি দিয়েছি। আরেকজনের রেজাল্ট পাওয়ার আগেই মিডিয়া প্রচার চালিয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

৮১৭ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বাকি আছে ৮১৭ জন। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে। অপপ্রচার দেখে আমি একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে দিয়েছিলাম। যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *