■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ২০২৪ সালটি ছিল ভয়াবহ। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন রুটগুলোতে অন্তত ৮ হাজার ৯৩৮ জন মারা গেছেন। যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
আইওএম আরও জানিয়েছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত অনেক বেশি। কারণ সরকারি সূত্রের অভাবের কারণে অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
২০২৪ সালে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। যা যথাক্রমে ২ হাজার ৭৭৮, ২ হাজার ২৪২ এবং ২৩৩ জন।
ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকারীদের প্রধান প্রবেশদ্বার ভূমধ্যসাগরে মোট ২ হাজার ৪৫২ জন মারা গেছেন বলে রেকর্ড করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে কমপক্ষে এক হাজার ২৩৩ জন মারা গেছেন।
আইওএমের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং মেক্সিকোতে এ ধরনের সহিংসতার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য কারা দায়ী— সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
আইওএম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ অঞ্চল, যেখানে গত বছর ২ হাজার ৭৮৮ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভূমধ্যসাগর (২ হাজর ৪৫২ মৃত্যু) এবং তৃতীয় অবস্থানে আফ্রিকা (২ হাজার ২৪২ মৃত্যু)। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩৪১, ইউরোপে ২৩৩ এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন গিরিখাতে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর আর একটি বড় কারণ সহিংসতা। আইওএমের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে যত অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশের নিহত হওয়ার কারণ গুলি, ছুরিকাঘাত এবং প্রহার। অনেকক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি এসব সহিংসতা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আইওএমের মহাপরিচালক উগোশি ড্যানিয়েলস বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু আমাদের এই বার্তা দিচ্ছে যে এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য আমাদের একটি আন্তর্জাতিক ও সামগ্রিক নীতি প্রয়োজন। আমরা এ ধরনের দুঃখজনক প্রাণহানি আর দেখতে চাই না।”
আইওএম-এর মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রকল্পের সমন্বয়ক জুলিয়া ব্ল্যাক বলেন, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয় না বা অজানাই থেকে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থসহায়তা সংকটের কারণে আইওএম তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘জীবন রক্ষাকারী’ অনেক কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে বিশ্বের লাখো অভিবাসী নতুন করে সংকটে পড়বেন। বিশেষজ্ঞরা এই ভয়াবহ অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি মানবিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।