হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা

𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে পৌঁছে। এরপর ইরান সরকারের কাছে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত। জয়যাত্রা এখনো হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে এর জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়া বেসিকের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।’

সুযোগ সুবিধা বাড়ানো প্রসঙ্গে বিএসসির এমডি বলেন, ‘নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিবারের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারছেন।

জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক নিরাপদে আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে।

ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আটকা পড়ে জাহাজটি। গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর এটির কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। যুদ্ধ বিরতি আলোচনার পর এটি সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলো তারা। কিন্তু হরমুজ প্রণালির মুখ পর্যন্ত গিয়েও ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের। জাহাজটির ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার কথা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *