ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত

𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎   

দেশের ছয় জেলায় কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নেত্রকোনায় একজন, হবিগঞ্জে একজন ও কিশোরগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ

জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিরা হলেন জামালগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৫), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৩) এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (২৮)।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হক (৪০) ও তাঁর ছেলে রহমত উল্লাহ এবং শিখা মনি (২৫)। তাহিরপুরের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৪), জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে কালবৈশাখী শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান, লিটন মিয়া ও নূর জামাল ধান কাটতে গিয়ে, রহমত উল্লাহ বাড়িতে কাজ করার সময় এবং আবুল কালাম হাঁসের খামারে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত হন। তাঁদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) প্রশান্ত দাস তালুকদার।

হবিগঞ্জ

জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সুনাম উদ্দিন মমিনা হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

ময়মনসিংহ

এদিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, রহমত আলী উজ্জ্বল মুদিদোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় বোনজামাইয়ের ধানখেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান উজ্জ্বল। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহত ব্যক্তির দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলার বড় হাওরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষকের নাম হলুদ মিয়া (৩৫)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হলুদ মিয়া বড় হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে অন্য কৃষকেরা ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার আটপাড়ায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বেলা ১টার দিকে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আলতু মিয়া উপজেলার হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

রংপুর

রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আজ দুপুরে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে বজ্রপাতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রামেশ্বর পাড়ার মিলন মিয়া (৩৬) ও সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৫৭)। ঘটনার সময় তাঁরা পুকুরপাড়ে একটি টংয়ে বসে ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বড় হযরতপুর ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম লাভলু।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *