দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন নিহত হয়েছেন। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪২ বছর।

তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের স্ত্রীর বড় ভাই। ইমনের এককালের সহযোগী টিটন।

আজ মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

নিহত টিটনের বাবার নাম কে এম ফকরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম। তাঁর বর্তমান ঠিকানা হাজারীবাগ থানার জিগাতলার সুলতানগঞ্জ এলাকায়।

২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে তাঁর নাম ছিল। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদৎ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট বটতলা শহীদ শাহনেওয়াজ হোস্টেলসংলগ্ন রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসা পথচারী শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান জানান, রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট বটতলা শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনের রাস্তায় দুজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ওই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন মিলে তাদেরকে ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে লোকজনকে ভয় দেখানোর জন্য গুলি ছোড়ে। তারা দুজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিল।

মেজবাহ রহমান আরও জানান, ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে তিনি লাপাত্তা হন এবং এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তাঁর অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাঈম আহমেদ টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তাঁর বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তির মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদৎ হোসেন জানান, ‘গুলির ঘটনা শুনে হাসপাতালে আসি। তবে তিনি মারা গেছেন। তাঁর পরিচয়সহ বিস্তারিত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *