✍︎ জামালপুর প্রতিনিধি ✍︎
শ্রদ্ধা ভালবাসায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত জামালপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে সমাহিত করা হয়েছে।
ছেলেকে অনেক যত্ন করে বড় করেছেন, কখনোই তাকে কষ্ট দেননি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের বাবা জহুরুল হক। ছেলের মরদেহ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পরে তিনি বলেন, আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামের পূর্ব বিনোদ টঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দাদা – দাদীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। লিমনকে বিদায় জানাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ কয়েক শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকালে লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। লিমনের এমন মৃত্যুতে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন পরিবার সহ পুরো গ্রামের মানুষ। লিমনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে।
সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন এবং বিমানবন্দরে উপস্থিত নিহত লিমনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।
এসময় লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, আমার ছেলে দুইটাকে তিলে তিলে বড় করার চেষ্টা করেছি, কোনো প্রকার কষ্ট দেইনি, কোনো প্রকার আঘাত করিনি। কোনোদিন শারীরিক শাস্তি দিইনি ওদের। যা শাসন করেছি, আমি মুখে শাসন করেছি। আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।
তিনি বলেন, সে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, তা উপরওয়ালাই জানেন।
তিনি আরও বলেন, সে তার রুমমেটের সঙ্গে কোনো ঝগড়া বা সমস্যার কথা কখনো পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেনি। সবকিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। আমরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র— দুই দেশের সরকারের কাছেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে একই সময়ে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় হিশামের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন অংশ নেন।
লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর, গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছাকাছি ওই এলাকায় পুলিশ গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। তবে সেগুলোর অবস্থা এমন ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলো বৃষ্টির।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন এবং বিমানবন্দরে উপস্থিত নিহত লিমনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ আছে বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছে উল্লেখপূর্বক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ পাঠানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন অংশ নেন।
