বৃষ্টির মরদেহ চিহ্নিত, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করেছে পুলিশ। বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির।

শুক্রবার (১ মে) ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ৪ মে দেশে আসার কথা রয়েছে। মরদেহটি অরল্যান্ডো (এমসিও) থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে রওনা হবে। পথে দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিমনের নিথর দেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

একই দিন পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও নিখোঁজ হন। গত রোববার ফ্লোরিডার আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।

লিমন ও বৃষ্টি উভয়েই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল তাঁরা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় তাঁর বাসার বাইরে, যেখানে তিনি অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহ (২৬) এবং আরেক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।

তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের অবস্থান ও লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তির গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলপথ থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এখন বৃষ্টির বলে নিশ্চিত হয়েছে।

ঘটনার কয়েক দিন পর অভিযুক্তকে তাঁর মা-বাবার বাড়ি থেকে একটি সোয়াট টিম গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টাম্পায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত শুনানিতে হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাক্ষী বা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ প্রথম ডিগ্রির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, যদিও প্রসিকিউটররা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করবেন।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা সে সময় লক্ষ করেন, তাঁর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল।

পরে ভবনের ম্যানেজারের সহায়তায় তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা আরেক রুমমেট পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে নিজের কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের বাক্স সরিয়ে আবর্জনা রাখার স্থানে নিয়ে যান।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *