পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

✍︎ কলকাতা প্রতিনিধি ✍︎ 

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় ১২টা ৩০ মিনিট) দিকে হয়েছে এই শপথ অনুষ্ঠান।

এই দিন শুভেন্দুর পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন আরও ৫ জন। তারা হলেন-দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দুর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। তার পর অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।

গত ৪ মে রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষিত হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই প্রশ্নই বার বার ধেয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বার বারই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, কোনও বাঙালি এবং বাংলামাধ্যমে পড়াশোনা করা নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে।

বিজেপি যে ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে যখন গেরুয়া ঝড় উঠল, তখন সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে সেই জল্পনাকে সত্যি করেই শুক্রবার শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। দলের সকলের প্রস্তাবনায় তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ।

গতকাল শুক্রবার বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।”

কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিজেপি শাসিত ও বিজেপির জোট সরকারের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মঞ্চে ছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, অভিনেতা ও রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ সিং, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর।

অনুষ্ঠান শুরুর তিন ঘন্টা আগে থেকে ব্রিগেড ময়দান ছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা। এখানে ২১টি ঝালমুড়ির স্টল ও একাধিক মিষ্টির স্টল করা হয়। সকাল থেকে ওইসব স্টলে ছিল ভিড়। ভোটপ্রচারে গিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকে ঝালমুড়ি তাদের সফলতার উপকরণ মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ বাতিল হয়েছে একটি আসনের ভোট। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে। 

শুভেন্দু অধিকারী এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে জোরালো করে।

মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ মুখ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরপরই একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য। তাঁরা হলেন—

  • দিলীপ ঘোষ: খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী।
  • অগ্নিমিত্রা পাল: আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক।
  • অশোক কীর্তনীয়া: বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী।
  • ক্ষুদিরাম টুডু: রানীবাঁধ কেন্দ্রের বিধায়ক।
  • নিশীথ প্রামাণিক: কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা থেকে জয়ী।

যদিও কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন, তা নিয়ে এখনই কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *