✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ঢাকার ফ্লাইট কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স ‘রিয়াদ এয়ার’ ও ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’। এর মধ্যে রিয়াদ এয়ার ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
বেবিচক সূত্র জানায়, রিয়াদ এয়ারের প্রয়োজনীয় সব দাপ্তরিক কাজ শেষ হয়েছে। তবে, তারা এখনও তাদের নির্দিষ্ট ফ্লাইট শিডিউল জমা দেয়নি। শিডিউলের অনুমোদন পেলেই তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
বর্তমানে ঢাকা-সৌদি আরব রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স।
রিয়াদ এয়ার সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তারা ঢাকা থেকে সপ্তাহে সাত দিন সৌদি আরবের রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটেও ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া, ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করছে তারা। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, হজ-উমরাহ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত থাকায় এই রুটকে উচ্চ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারও ঢাকার আকাশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে ফ্লাইট শুরুর আবেদন জানিয়ে তারা তেহরান থেকে ঢাকা রুটে বিমান চালানোর অনুমতি চায়। একই সঙ্গে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দুবাই, মাস্কাট, ইসলামাবাদ ও করাচিতে যাত্রী পরিবহনের জন্য ‘ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস’-এর আবেদন করেছে। ফিফথ ফ্রিডম সুবিধা থাকলে একটি বিদেশি এয়ারলাইন্স নিজ দেশের বাইরে তৃতীয় দেশে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পায়।
তবে, ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মাহান এয়ারের এই আবেদন ঝুলে আছে। বেবিচকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইরান বর্তমানে একটি সংবেদনশীল দেশ। তাদের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিশেষ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে মতামত চাওয়া হলেও এখনও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘নতুন এয়ারলাইন্স হিসেবে রিয়াদ এয়ার ও মাহান এয়ারের প্রবেশ ইতিবাচক। গত দুই বছরে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নতুন সংযোজন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন এয়ারলাইন্স বাজারে আসা অবশ্যই পজিটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য রুটে চাহিদার তুলনায় সিট ক্যাপাসিটি কম থাকায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। নতুন এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে ক্যাপাসিটি বাড়বে, প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে এভিয়েশন খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত।’
তবে, ইরানের মাহান এয়ারের ফিফথ ফ্রিডম আবেদনের বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক এয়ার সার্ভিস কাঠামো নেই। এটি না থাকলে এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দেশের স্বার্থ নিশ্চিত না হলে এমন সুবিধা দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে বিদেশি এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে এবং স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য প্রভাবিত হতে পারে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ফ্লাইট পরিচালনায় আসা মাহান এয়ার ইরানের তেহরানভিত্তিক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইন্সটি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিভিন্ন সময়ে সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েছে এয়ারলাইন্সটি।
