✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তেও দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়কে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামে তিনজন, গোপালগঞ্জে পাঁচজন, গাইবান্ধায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন, দিনাজপুর, ফরিদপুর, নরসিংদী ও পটুয়াখালীতে দুজন করে এবং মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও নড়াইলে একজন করে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই কিশোরও রয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও থ্রি-হুইলার (লেগুনা) মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতিতে উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
গোপালগঞ্জে নিহত ৫
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন বলে ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা হয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কোলারদোনিয়া গ্রামের সোহাগ (৪০)। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। এ সময় প্রাণ হারান সোহাগ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী।
এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন- বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সমেশ ঢালীর ছেলে শাওন ঢালী ও একই উপজেলার মাহাবুব শেখের ছেলে শোয়েব শেখ। গোপালগঞ্জ সদর থানার (ওসি) তদন্ত নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
‘মেয়ে-জামাই-নাতির এমন মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না’
ঈদের দিনে গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোনিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মো. সোহাগ (৩৬), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩০), ছেলে মো. আরমান (৬), মোটরসাইকেল চালক বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের শাওন ঢালী (২২) ও মোটরসাইকেল আরোহী একই গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সোয়েব শেখ (১৬)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গ্রামে বেড়াতে আসছিলেন তারা।
খবর পেয়ে বিকেল ৫টার পর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন নিহত গৃহবধূ খাদিজা খাতুনের বাবা মো. খালেক ও ভাই মেহেদী হাসান। মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।
মো. খালেক জানান, তার গ্রামের বাড়ি কলারদোনিয়া গ্রামে। একই গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেয়ে খাদিজাকে ১৬ বছর আগে বিয়ে দেন। তাদের দুটি ছেলে আছে। বড় ছেলের নাম রহমতউল্লাহ (১৪) এবং ছোট ছেলে আরমান (৬)।
তিনি আরও জানান, মেয়ে স্বামী ও ছেলে আরমানকে নিয়ে ঢাকায় থাকত। স্বামী পোস্তগোলায় কাঠের আড়তে ট্রাকে কাঠ লোড-আনলোড শ্রমিকের কাজ করেন। বড় নাতি রহমতুল্লাহ গ্রামে থেকে লেখাপড়া করে।
তিনি বলেন, সকাল ১১টার দিকে তাদের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তখন তাদের গাড়ি ভাঙ্গায় বলে জানায়। তারপর অনেকবার ফোন দিয়েছি। কিন্তু ফোন ধরেনি। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে এসেছি।
‘আমার মেয়ে-জামাইয়ের সংসার শেষ হয়ে গেল। রহমতুল্লাহ এতিম হয়ে গেল। আমি মেয়ে-জামাই-নাতির এমন মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না’- এই বলে মরদেহের পাশে গড়াগড়ি করছিলেন তিনি।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের ২ আরোহীসহ ৪ জন নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ৬ বছরের শিশু আরমানের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও ২৫ বাসযাত্রী।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ১১ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পটুয়াখালীতে নিহত ২
ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত যেন মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপায়। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আল ফয়সাল (২২) ও তামিম ইকবাল (১৬) নামে দুই তরুণ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটের দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পৌরশহরের গ্রামীণ ব্যাংকের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তামিম ইকবাল গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি গলাচিপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ঝিলাম মিয়ার ছেলে। অপরদিকে নিহত আল ফয়সাল তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার ঢাকার টঙ্গী শাখার এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি একই এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন (আবু) মিয়ার ছেলে।
দিনাজপুরে ২ শিশু নিহত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মায়ের সঙ্গে ঈদের দিন সকালে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল্লাহ (৪) ও আরিফা (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিশুর মা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কানাগাড়ি বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শামসুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ (৪) ও দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাড়ো আরিয়া এলাকার আল আমিনের মেয়ে আরিফা (৪)।
গাইবান্ধায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
গাইবান্ধায় সুন্দরগঞ্জে ঈদের দিনে প্রাণ হারালেন এক নারী। বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তে শহরের মোড় নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৪৫ বছর বয়সী ও নারীর নাম মালেকা বেগম। নিহত মালেকা বেগম উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর গ্রামের পশু চিকিৎসক মনছুর আলীর স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক জুলিয়াস রহমান।
এছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার রাত পৌঁনে ১টার দিকে পৌরশহরের রাইগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘটনার দায়িত্বে থাকা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ফারুক।
নিহত একজন ছাত্রলীগ নেতা হাসান আলী প্রধান (২৬)। হাসান আলী পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন এবং পৌরশহরের পশ্চিম গোয়ালপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে। নিহত অপরজন একই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে সিদ্দিক আলী (৩৫)। সিদ্দিক রিকশা চালক ছিলেন।
নড়াইল, টাঙ্গাইল ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক সাব্বির গাজী (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শওকত হোসেন (১৯) নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার আলমুন্সির মোড় নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
নিহত মোটরসাইকেল চালক সাব্বির গাজী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাবুল গাজীর ছেলে ও আহত শওকত হোসেন একই গ্রামের রিপন গাজীর ছেলে।
এদিকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কানন (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কচুয়া পুকুরপাড় মোড়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় এই তরুণ শিক্ষার্থী। নিহত কানন উপজেলার জিতাশ্বরী গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এছাড়া মাদারীপুরের শিবচরের বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাত্তার হাওলাদারের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে।
ফরিদপুরে নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের দুই আরোহী।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই ব্যক্তি হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাদরদী এলাকার কাঞ্চন মোল্লার ছেলে সাইফুল মোল্লা (২৫) এবং বরিশাল সদর উপজেলার রূপাতলী হাউজিং এলাকার জিয়ানগর মহল্লার জাহাঙ্গীর শরীফের ছেলে আল ইমরান শরীফ (২৮)।
নরসিংদী রেলস্টেশনে নিহত ২
ঈদের নতুন জামা কিনে আর বাড়ি ফেরার পথে নিহত হয় ১৮ মাস বয়সী শিশু সাফওয়ান হাসেন এবং তার মা। ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান মা-ছেলে।
বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান হাসেন।
ফেরার পথে নরসিংদী রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম অতিক্রম করার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনে আমার অবুঝ শিশু সন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। আগামী ঈদ আমি কী নিয়ে থাকব? ট্রেন আসতে দেখে আমি অনেক চিৎকার করেছি, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ জানায়, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই পরিবারটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
