✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধ বিস্কুট কারখানা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফ নার্সদের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।
একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে টাইমস অফ বাংলাদেশ স্টাফ রির্পোটার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত, বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। পরে ১ নম্বর গেটের সামনে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে তাঁদের প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের উপস্থিতির মধ্যেই কিছু নিরাপত্তাকর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন।
পরে হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ঘটনাস্থলে আসেন। তবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।
এর আগে বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ভবনের ভেতরে একটি বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবরে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের ভেতরে পরিচালিত বেকারিটি নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের ভেতরে বেকারি পাওয়া গেছে। সেখানে দুটি ইলেকট্রিক ওভেনে রুটি তৈরির কার্যক্রম চলছিল। কোনো ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি। এটি হওয়া উচিত হয়নি। সেখানে প্রচুর ময়লা-আবর্জনাও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য ওই বেকারিতে খাবার প্রস্তুত করা হতো। সেখান থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত বুধবার (২৭ মে) সকালে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একসঙ্গে ছয়টি শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি তদন্ত কমিটি আগামী ৩ জুনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত ও বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আদ-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।
