ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৫৮৯

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ জনে। একই সঙ্গে ৩ হাজারের জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। 

ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় বহু ভবন ধসে পড়েছে।

ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে মানুষজনের সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, এর কয়েক সেকেন্ড পরই আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।ভূমিকম্প দুইটি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়ায় ধ্বংসের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়েছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত, অনিরাপদ ভবনে থাকতে ভয় পেয়ে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন।

ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

অনেক দেশ উদ্ধারকাজে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ও দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পরিবহন জাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে।

জর্জে রদ্রিগেজ আরও জানান, ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে গেছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরায়। বিবিসি ১০ তলা একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের ফুটেজ যাচাই করেছে। বৃহস্পতিবার সেখানে মানুষজন তাদের প্রিয়জনদের খুঁজছিল।

কারাকাসের একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হুয়ান ওর্তিজ বিবিসিকে বলেছেন, তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, আরেকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে বলে মনে করা হচ্ছে এবং উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী তার পরিচিত প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি হতবাক, বিভ্রান্ত এবং সাহায্য করতে না পারার হতাশায় ভুগছি।”

কারাকাসের বৃহত্তর মহানগর এলাকার অংশ চাকাওয়ের মেয়র গুস্তাভো ডুকে বৃহস্পতিবার একটি ধসে পড়া ভবনের বাইরে বলেন যে, সেখানে ১১ জন মারা গেছেন এবং ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছে যাতে বিশেষজ্ঞরা “আশা করি এখনও জীবিত থাকা মানুষজনের কাছে পৌঁছাতে পারে।”

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতির কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের ভেতরের ভিডিওতে ছাদ থেকে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে।

কারাকাস থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, উপকূলের তুসাস শহরে একটি বহুতল ভবন, যা একটি হোটেল বলে জানা গেছে, ধসে পড়ার আরেকটি যাচাইকৃত ভিডিও দেখা গেছে।

ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভেনিজুয়েলানা দে টেলিভিসিওনকে জানিয়েছেন, জোড়া ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা ধারণা করছে, ১০ হাজারের বেশি মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২% এবং ১ লাখেরও বেশি মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩%।

এই বিপর্যয়টি ভেনিজুয়েলার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরার আদেশের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

“বিশাল আকারের দুটি বড় ভূমিকম্প ভেনিজুয়েলার জনগণের ওপর আঘাত হেনেছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে,” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র “সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম!” তিনি যোগ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সংস্থান এবং মানবিক সহায়তা মোতায়েন করছে।”

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলায় এর আগে ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক প্রলয়ংকরী ভূকম্পনে ২৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এবারের জোড়া আঘাত অবকাঠামোগত দিক থেকে দেশটির জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *