মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ অন্তত দুটি বস্তুকে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে দুটি বিস্ফোরক বস্তু উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বস্তু দুটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত মিরাজ আহমেদ জানান, তাঁর বাসা মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায়। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। রাতে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের পাশ দিয়ে বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এ সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার তাঁর বাম চোখের নিচে এসে লাগে।

আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার বন্ধু মো. সামসুল হক জানান, মিরাজ পেশায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন সরকারি কর্মচারী (অফিস সহকারী)। তিনি বলেন, “আমরা মতিঝিলে মেট্রোরেলের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মিরাজ আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।”

তিনি আরও জানান, আহত মিরাজ টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার বেড়াডাকুরি এলাকার রকিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে মতিঝিলের আরামবাগের ৬২ নম্বর বাসায় বসবাস করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত এক পথচারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর বাম চোখের নিচে আঘাত লেগেছে। বর্তমানে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রথযাত্রায় অংশ নেওয়া কয়েকজন পথচারী মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কের ওপর রাখা একটি ছাতার ভেতরে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। তাঁরা বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের জানালে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। তখনই নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বস্তু দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় সড়ক বিভাজকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এগুলো টাইম বোমা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক বস্তুগুলো ছাতার ভেতরে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল, কেউ ছাতাটি খুললেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। নিষ্ক্রিয় করা বস্তুগুলোর ভেতরে ডেটোনেটর ও শক্তিশালী বিস্ফোরক পাওয়া গেছে।

ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কে বা কারা এসব বিস্ফোরক বস্তু সেখানে রেখে গেছে, তা জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *