মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর, গ্রেফতার ৪

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ভাঙচুরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেফতাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

লুটপাটের পর ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *