তালা ভেঙে চুয়েটে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য শরীফুল

✍︎ চুয়েট প্রতিনিধি ✍︎ 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।  সোমবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন।

পরে উপাচার্যের চেয়ারে বসা অবস্থায় তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উপাচার্যের চেয়ারে বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ১১ ও ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্যের ঢাকায় থাকার কথা ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়মিত পাহারা দেননি। সেই সুযোগে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারাও তাকে চাইছেন না, সেখানে জোর করে তালা ভেঙে কীভাবে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন, তা বুঝতে পারছি না। তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের মধ্য দিয়ে সংকট আরও বাড়ল বলে মনে হচ্ছে।’

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে টানা ২০ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক সমিতির সদস্যরাও। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষাবর্ষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। আন্দোলনের কারণে এতদিন তিনি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। পরে গত ১০ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ওই রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি। আন্দোলনে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারাও।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *