চুয়েটে উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

✍︎ চুয়েট প্রতিনিধি ✍︎

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচিও পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এর প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে।এতে ছাত্রীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাত ১২টার দিকে মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। 

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ক্যাম্পাস অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সায়েম স্যার চুয়েট ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমরা তার পুনর্বহাল চাই।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর তারা একজন শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য পেয়েছিলেন। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। দ্রুত অধ্যাপক সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি রয়েছে। সেখানে সাধারণ সভার মাধ্যমে দাবি জানানো হয়েছে সদ্য সাবেক উপাচার্যকে যেন আবার তাঁর কাজে বহাল করা হয়। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে সেই দাবিকেই সমর্থন করছি।’

এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সোমবার তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় ফোঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *