✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
শনিবার সকাল থেকে দুই এলাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়ার কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সকাল থেকে আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের কারণে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শ্রমিকেরা সরে যান। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেল ৩টার দিকেও মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালশী সড়কে শ্রমিকদের অবরোধ চলছিল।
মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আশুলিয়া থেকে তিনটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে শ্রমিকদের উসকে দিতে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন তেমন ভালো নয়। শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তাঁরা অন্য কারখানার শ্রমিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। আমরা শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে কাঠগড়া এলাকায় প্রথমে ‘নাঈম নিটওয়্যার’-এর শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
কাঠগড়া আমতলা এলাকার একটি পোশাক কারখানার একজন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের আশপাশের দুই-তিনটি কারখানা ছাড়া বাকি সবই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
এদিকে বিশমাইল-জিরাবো সড়কে চলাচলকারী একাধিক অটোরিকশাচালক জানান, সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করার পর থেকে ওই সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটারস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং এবং যথেচ্ছভাবে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
খায়রুল মামুন জানান, অক্টোবরের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী, কিন্তু তা হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গতকাল রাতে শ্রম মন্ত্রণালয়ে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী রোববারের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হবে। কিন্তু এই বার্তাটি সাধারণ শ্রমিকদের কাছে ঠিকমতো না পৌঁছানোয় তারা আন্দোলন করছেন।
এদিকে আশুলিয়ায় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক থেকে ককটেলসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করেছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।
শনিবার দুপুরে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নাসা গ্রুপের কারখানার সামনে থেকে বস্তু তিনটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ- ১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটকে (এটিইউ) বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে এ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
