ইরানের পরমাণু প্রকল্পের তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং ব্যক্তিবর্গ (বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানী) সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে কেউ তথ্য দিলে সেই তথ্যদাতাকে পুরস্কার হিসেবে ২ কোটি ডলার দেবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, সেই তথ্যদাতাকে ‘নিরাপদ স্থানান্তরের’ সুযোগও দেওয়া হবে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় জানানো হয়েছে এ তথ্য। এক্সবার্তায় সেন্টকোম বলেছে. “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের (যেমন—বিজ্ঞানীদের) বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ও নিরাপদ স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (ন্যায়বিচারের জন্য পুরস্কার) কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা হবে এই পুরস্কার ও পুনর্বাসনের সুযোগ।”

পৃথক এক বিবৃতিতে একই ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পুরস্কার ও স্থানান্তরের তথ্য প্রদানের পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, “জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা বিষয়ক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের ব্যর্থতার ফলে, সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে থাকা তথ্যের ধারাবাহিকতা (কন্টিনিউটি অব নলেজ) বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।”

১৯৮৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক পুরস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ চালু করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ এই কর্মসূচির  উদ্দেশ্য হলো—এমন তথ্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা, যা মার্কিনিদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার যেদিন সেন্টকম এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিনিময়ে পুরস্কার ও পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরোনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ইরান ‘মরিয়া’ হয়ে আছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন বাহিনী কার্যকরভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যদি ইরানে আঘাত না করতাম, তবে আজ ইসরায়েল টিকে থাকত না। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিত “

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর গত আট মাসে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, “আট মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী। আমরা এখন তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তারা খুব মরিয়া হয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।”

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালালে ইসরায়েলের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে পড়ত। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দেশটি মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের আট মাসে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরান সংঘাতের অবসানে চুক্তি করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা খুব করেই একটি চুক্তি করতে চায়।’

এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প জানান, ইরানের এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে। এর মধ্যে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি স্থাপনাও রয়েছে, যেটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান ওই স্থাপনাকে পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি অস্বীকার করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *