পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎ 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ রাতেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।  এর আগে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আরাগচি টেলিফোনে কথা বলেন।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয়পক্ষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এছাড়াও পাক সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন আব্বাস আরাগচি বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা।

এদিকে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে পাকিস্তান ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদে দুটি হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অপরাধে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা বসতে এ পর্যন্ত রাজি হয়নি ইরান।

কিন্তু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি জনবল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কেবল পাকিস্তান নয়, ওমান ও রাশিয়াও সফর করবেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করার জন্য পাকিস্তান জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরাগচির এই সফরকে সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চলা উত্তেজনা নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আগামী সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর পরগাছার মতো নির্ভর করছে। হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপের দেশগুলোরই হরমুজ প্রণালি বেশি প্রয়োজন। তাই বড় বড় সম্মেলন না করে তাদের উচিত নিজেদের শক্তি দিয়ে এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার কাজে নামা।

তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ পাল্টা অবস্থানে অটল আছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে অভিযান যুক্তরাষ্ট্র একাই শুরু করেছে, সেখানে সমর্থনের অভাব নিয়ে অভিযোগ করা সাজে না। এর আগে ট্রাম্পও মিত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তাদের উচিত নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করা এবং নিজেদের জন্য লড়াই করতে শেখা। মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ইউরোপে। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *