দিনাজপুরে একই পরিবারের ৩ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত

✍︎ দিনাজপুর প্রতিনিধি ✍︎  

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার এক সেনা সদস্যসহ তার পরিবারের ৩ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ক্ষতস্থান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে তারা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন।

আক্রান্তরা হলেন- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পাওটানাহাট আদম পাড়ার বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান, তার স্ত্রী মোছা. স্বপ্না বেগম ও তার ছেলে মো. সুমন ইসলাম। সুমন ইসলাম পার্বতীপুরের খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টের সেনা সদস্য বলে জানা গেছে।

জুলাই মাসে ৩ জন গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পাওটানাহাট আদমপাড়ায় গিয়েছিলেন। পরে পার্বতীপুরের খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হন। তাদের ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হারুনুজ্জামান বলেন, আমরা রোগী দেখিনি। ক্যান্টনমেন্টের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখেছেন এবং তারাই চিকিৎসা দিয়েছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কাজী আহম্মেদ জাকীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি সরেজমিনে আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনের উদ্দেশ্যে টিম গঠন করা হয়। টিমের সদস্যরা হলেন- আইইডিসিআর উধ্বর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. সৈয়দা তাসনুভা মারিয়া, এফইটিপি ডা. মোস্তফা মাহমুদ, ডা. মেরী হাপাং, মেডিকেল এ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. আব্দুল খালেক, মেকেল টেকনোলজিস্ট মো. গোরাম রাব্বানী ও ল্যাব এ্যাটেনডেন্ট মো. জহির। ইতোমধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর টিমটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এসে তারা নমুনা সংগ্রহ করেছে।

আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, অ্যানথ্রাক্স প্রাণীবাহিত বা জুনোটিক রোগ। মাটিতে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু থাকে। ঘাস বা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় গরু–মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু বা মহিষ থেকে অ্যানথ্রাক্স মূলত মানুষে আসে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাংস নাড়াচাড়া করলে, কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে মানুষ থেকে মানুষে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না।

অ্যানথ্রাক্স মানুষের ত্বকে, গলার ভেতরে ও পাকস্থলীতে দেখা দেয়। তবে ত্বকেই বেশি দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, ফুসকুড়ি একপর্যায়ে ফোসকায় পরিণত হয়। দ্রুত রোগ শনাক্ত না হলে, ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে অ্যানথ্রাক্সে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এই দায়িত্ব পশুসম্পদ অধিদপ্তরের। অন্যদিকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু–মহিষ বা অন্য কোনো পশুকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিধিমোতাবেক মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গবাদিপশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি না করে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগেরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *