শিশু আছিয়া হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।

হিটু শেখের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রায়ের দিন পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল ওই শিশু। এরপর ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গত বছরের ৮ মার্চ শিশুটির মা চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং গত বছরের ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ৬ মার্চ ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে ৭৩ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। গত ৮ জুন ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে বিজিপ্রেস থেকে হাইকোর্টে আসে। ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয় শুনানি। গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারবেন হিটু শেখ। আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। রিভিউ খারিজ হলে সব শেষ রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন না করলে বা আবেদন করার পর তা খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *