৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে আমিরাত

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের বিষয়টি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

পোস্টে নুরুল হক নুর বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হওয়া ৪ হাজার বাংলাদেশিদের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আমরা অবগত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত পুনর্বাসন, মাসিক সহায়তা ভাতা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মাসিক ১৫-২০ হাজার টাকা প্রবাসী সহায়তা ভাতা দিতে হবে।

কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো সম্ভব না হলে সরকারের উদ্যোগে উপযুক্ত অন্য দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। বিকল্প দেশে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা ভাতা অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করে ভিসা জটিলতার দ্রুত সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার দাবি জানানো হয়েছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা নবায়ন, পুনঃ প্রাপ্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। বৈধভাবে কর্মরত ও অবস্থানরত প্রবাসীদের ভিসা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী সব বাংলাদেশিকে সুনির্দিষ্ট প্রবাসী পেনশন বা কল্যাণ ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এতে কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে প্রবাসীরা সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ ঘোষণা করতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *