বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

দেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। বন্যায় দেশের সাতটি জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যাপ্লাবিত হয়েছে এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা। এ ছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারিভাবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৪২টি। সেসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৪৮ ঘণ্টায় বন্যার শঙ্কা, বাড়বে নদ-নদীর পানি

দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন নতুন অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ দেওয়া বুলেটিনে এ তথ্য দেওয়া গয়েছে।

যেখানে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের ৫টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবান ও দোহাজারী স্টেশনে সাঙ্গু নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।

এই পানি বৃদ্ধির ফলে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম; উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তবে এর মধ্যেই কিছু এলাকায় স্বস্তির খবর দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণের জেলা বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন এলাকা এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *