✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
দেশের সাত জেলায় বন্যা, টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৬টি উপজেলা, ৩৭৪টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২৯৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছেন ৩২ জন, যার মধ্যে স্থানীয় ১৯ জন এবং রোহিঙ্গা ১৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য, ঢেউটিন ও ঘর নির্মাণের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এসব সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিনসহ বিভিন্ন সহায়তা।
এছাড়া বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪০০ মেট্রিক টন চাল, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
