✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
আবারও বাড়ল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সয়াবিন তেলের নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।
মন্ত্রী বলেন, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলেও লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৫ টাকা থেকে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উৎস পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব সরাসরি পড়ে। সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেশীয় বাজারেও এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস থেকেই আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে দেখেছি, তাদের দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে তাদের প্রস্তাবিত পুরো পরিমাণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে একদিকে যেমন রিফাইনারদের লোকসান কমবে, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে বাজারে খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এসময় সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দাবি করেন, বর্তমান মূল্য কাঠামোতে তাদের এখনও লোকসান হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, রিফাইনিং খরচসহ বিভিন্ন ধাপের ব্যয় যুক্ত করে মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।
তারা বলেন, আমরা যে ফর্মুলা অনুসরণ করে দাম নির্ধারণ করি তা সবার জন্য উন্মুক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারদর, ফ্রেইট, খালাস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় যোগ করলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিনির্ভর এই পণ্যের স্থানীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভোজ্যতেল খাতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।
তবে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ৮ এপ্রিল ‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে’ মানববন্ধন করে। ক্যাবের নেতারা তখন বলেন, দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহসংকট চলছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও। বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও।
মানববন্ধন থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরে ক্যাব। এগুলো হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গতকাল ১ লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকা। আর ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকা। বাজারে যে দামে খোলা সয়াবিন তেল বেচাকেনা হচ্ছে, আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তার দাম কম।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
