দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) -এর সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এবং মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার শঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম কাজ শুরু করেছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা যায়নি।

জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে যুগ্ম কমিশনার শাহাবুদ্দীন বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বা সম্ভাব্য হামলাকারীদের শনাক্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি মুনশী শাহাবুদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন, তাই মন্তব্য করার সময় আসেনি।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *