ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ভারত যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে— তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আসর বসছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকসে যোগ দেওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। ভারতের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। যাচ্ছেন না নয়াদিল্লিতে।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ছিল। বিশেষ করে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সফরের সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকার আগ্রহ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিবেশ অনুকূল হলে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোহিঙ্গা সংকটেও রাজনৈতিক সমাধান চায় ঢাকা

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে পাঠানোকে প্রত্যাবাসন হিসেবে দেখলে হবে না; তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। ভেরিফিকেশনের নামে মিয়ানমার যাতে সময়ক্ষেপণ করতে না পারে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ সতর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে অর্থনীতি, পরিবেশ, জনসেবা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সংকটটি বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই এর সমাধানের দায়িত্বও শুধু বাংলাদেশের নয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, শুধু ত্রাণ ও অর্থায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়; মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বক্তব্য দেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *