✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব।
যশোরে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। নারীদের রান্নাবান্নার কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড প্রদান এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার যশোরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের নারী সমাজের কষ্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মা-বোনদের রান্নাবান্নায় খুব কষ্ট হয়। আমরা ইতিমধ্যে সারা দেশে মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি। এখন আমরা আরেকটি বিশেষ কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, সেটি হবে এলপিজি কার্ড।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, গ্রামের হোক বা শহরের—সব মা-বোনের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে রান্নার জ্বালানি নিয়ে তাঁদের আর কোনো দুশ্চিন্তা বা শারীরিক কষ্ট করতে না হয়।
কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের সুবিধা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই-চার মাসের মধ্যেই বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে। কলকারখানা চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সাথে ঢাকার বাইরে মিটিং করে তারা জনগণের জন্য কখনও কাজ করে না। যারা ৭১, ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড হাজার থেকে লাখ লাখ, এরপর লাখ লাখ থেকে কোটিতে পৌঁছাবে। এ ছাড়া বন্ধ অনেক কলকারখানা কয়েক মাসের মধ্যে চালু করবে সরকার।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে।’ বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে উড্ডয়ন করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রয়েছে—শার্শা উপজেলার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন; পুনঃখননস্থলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে যোগদান; বেলা সোয়া ১টায় যশোর শহরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন; বেলা দেড়টায় যশোরের প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন; যশোর সার্কিট হাউসে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর বেলা সাড়ে ৩টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে যশোর ছাড়বেন তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
বেলা আড়াইটায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন, হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
