✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ জন্য দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা এবং সরকারের তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যেটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এসময় তিনি সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীসহ সব শৃঙ্খলা বাহিনীর আমি মাঝেমধ্যে প্রশংসা করি। এই জন্যই করি, তাদের ভঙ্গুর মনোবল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় যেভাবে আমরা পেয়েছিলাম এই ছয় মাসের মধ্যে তাদেরকে একটা আমরা অবস্থান উন্নত করতে পেরেছি। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ তারা সচেষ্ট হয়েছে।’
রংপুরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রংপুরের একটি ঘটনার কথা মহাসচিব সাহেব বললেন সেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয়নি, প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা অ্যাড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আসতে পেরেছি। আদালতের কাছে সুপর্দ করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষেত্রমতে আমাদের চাহিদা অনুসারে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্য সমাপ্ত করার জন্য সহযোগিতা করেছি। সবকিছুই আপনারা জানেন। এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।’
পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তবে ইনশাআল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি বাংলাদেশের এই পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশিত জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।’
অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার, অ্যাওয়ার্ড, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রধানমন্ত্রী এদেশের গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্দেশনায় আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এমন একটা পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব, ইনশআল্লাহ জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে। এই বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন। অন্তত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা দিয়ে আপনারা সব বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
