✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ ৩৪ হাজার ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশে ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের (২০২৫ সালের) মার্চে। ওই মাসটিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার (৩.২৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২২ সালের পর থেকে ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত হলেও সাম্প্রতিক উত্থান স্বস্তিদায়ক।
বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলার জন্য সহায়ক হিসেবে ২০২২ সালে আইএমএফের কাছে ঋণ সহায়তা চায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আইএমএফ কঠিন শর্ত আরোপ করে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় করে দাতা সংস্থা আইএমএফ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়নের ডলারের নিচে নামে। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ানো হয়। আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে। আবার বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার যোগানের চেষ্টা করছে।
