সব আন্তঃনগর ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট

𓂃✍︎  নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎ 

গত ঈদুল ফিতরের আগে দেশের কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে যাত্রীদের।

শুধু ট্রেনেই নয়, ভবিষ্যতে বাস ও ফেরির যাত্রীদের জন্যও এই ধরনের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নির্দেশনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বিএসসিএল এবং সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস—এই তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়। ট্রেনের প্রতিটি বগিতে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়, যা স্ক্যান করে যাত্রীরা সহজেই ইন্টারনেট সংযোগে যুক্ত হতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয় যাতে কোনো জটিলতা ছাড়াই যাত্রীরা দ্রুত সংযোগ পেতে পারেন।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পাওয়া এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখন সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ একজন যাত্রী একবার সাবস্ক্রিপশন নিলে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন গণপরিবহনে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধা বাড়বে এবং সংযোগ ব্যবস্থাও আরও সমন্বিত হবে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইমাদুর রহমান বলেন, চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর পরীক্ষামূলক উদ্যোগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এটি দেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের চাহিদার একটি ইঙ্গিত বহন করে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বাস, ফেরি এবং দুর্গম এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, এই সেবা চালুর জন্য ট্রেনের প্রতিটি বগি, বাস বা ফেরিতে বিশেষ স্যাটেলাইট রিসিভার এবং ওয়াই-ফাই রাউটার স্থাপন করা হচ্ছে। এসব যন্ত্র সরাসরি কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত ইন্টারনেট সিগন্যাল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যাত্রীরা বগিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন। ভবিষ্যতে একটি কেন্দ্রীয় সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হলে ব্যবহারকারীরা একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রেন, বাস ও ফেরি—সব ধরনের পরিবহনে একইভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এদিকে বিএসসিএল সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশের দুর্গম এলাকাতেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। এরইমধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চল, হাওর এলাকা এবং নেটওয়ার্কবিহীন বিভিন্ন স্থানে মিলিয়ে ১১১টি পয়েন্টে এই সেবা চালু হয়েছে। যেখানে প্রচলিত ফাইবার অপটিক বা মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একইসঙ্গে দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’-এর ব্যবহারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৬৬টি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রান্সপন্ডার ভাড়ার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নেপাল ও ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশে স্যাটেলাইট সেবা রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *