জেদ্দায় আতঙ্কে সিঁড়ি থেকে পড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সৌরভ ইসলাম (২৫) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সৌরভ রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি আলসাইম কোম্পানির অধীনে জেদ্দার একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসার ছাদে অবস্থান করছিলেন সৌরভ। ওই সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার দিকে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার চেষ্টার সময় পায়ে তাঁর কিংবা রশি পেঁচিয়ে নিচে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সকালে সঙ্গে থাকা অন্য প্রবাসীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সেখানে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সৌরভের সঙ্গে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবে থাকা এক ব্যক্তি সৌরভের স্বজনদের ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়।

বুধবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা রেনু বেগম। স্বজন ও স্থানীয়রাও সেখানে ভিড় করছেন।

নিহতের মা রেনু বেগম বলেন, ‘সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে ছিল। ফোনে বারবার আমার খোঁজ নিত। এখন কে আমার খবর নেবে? আমি শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই। নিজের হাতে ছেলেকে মাটি দিতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে দিন।’

সৌরভের বাবা আমির ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে সৌদিতে সৌরভের সঙ্গে থাকা একজন ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন। এখন ছেলের মুখটা দেখতে চাই, নিজের হাতে মাটি দিতে চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। নিহতের স্বজনরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *