বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮২২৩ মিলিয়ন ডলার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুস্তফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। 

চাঁদপুর-৩ আসনের  শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যায় ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ। ঋণ হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭। ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্ত বায়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভূক্তির উদ্দেশ্য সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভূক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভূক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থ সংকটে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না, তাদের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি তারল্য সহায় দিচ্ছে। গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন করেনে। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।

এসময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার বেশকিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে, বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ হতে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ফলে আমাদের বৈদেশিক ঋণের ‘কনসেশনালিটি’ ধীরে ধীরে কমে আসছে। পাশাপাশি, একই সময় থেকে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ও বিপুলভাবে বেড়েছে। ফলে সামনের বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বৃদ্ধি পাবে।”

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বিএনপি সরকার বেশকিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি জানান, নতুন বৈদেশিক ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়। যেসব প্রকল্পের উচ্চ অর্থনৈতিক রিটার্ন রয়েছে, শুধুমাত্র সেই সব প্রকল্পের জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা প্রকল্পের নিবিড় তদারকি শুরু করেছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের মধ্যমেয়াদী ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি হালনাগাদ করার কাজ করছি। ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই ও সহনশীল করার লক্ষ্যে আমরা ঋণ টেকসইতার বিশ্লেষণ করছি। সব শেষে, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য আমরা শীঘ্রই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *