✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্ত্রী নূর আখতার, কন্যা (নিলুফার জমির) ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন (নওশাদ জমির ও নওফেল জমির)।
তার জানাজা নামাজ বাদ জোহর ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা পর্ব সম্ভব হবে না বলে তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এমপি জানিয়েছেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
ছাত্রজীবনেই ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা হয়। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন এবং শুরু থেকেই জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ এবং দিনাজপুর-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আবদুস সাত্তার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানাজা বিকেলে, সমাহিত হবেন সংসদ প্রাঙ্গণে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নামাজে জানাজা বিকেলে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার এই জানাজা সম্পন্ন হবে। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ সংসদের নির্ধারিত চত্বরে সমাহিত করা হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ অধিশাখা-১) রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম পাশের পাঁচ বিঘা জায়গাকে ‘জাতীয় কবরস্থান’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের পরে সেখানে সাতজনকে দাফন করা হয়। তারা হলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা ও সাবেক পাকিস্তানি মন্ত্রী খান এ সবুর, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার তমিজউদ্দীন খান এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং সাবেক রাজনীতিক আবুল মনসুর আহমদ।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তরে জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাবেক এই স্পিকারের আকস্মিক প্রয়াণে সংসদীয় অঙ্গনসহ রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলেও জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
