বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব চীনের

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনে ইকোনোমিক করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

মাহাদী আমিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই ইকোনোমিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টি-মডারেল ট্রান্সপোর্টকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তার আগে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন পরিদর্শন। সফর শেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় তার ও সফরসঙ্গীদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিংয়ের বৈঠকে মিয়ানমার হয়ে পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডরের গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। এই প্রস্তাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমি করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

তার আগে, স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোরের ধারণা নতুন কিছু নয়। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীন একটি প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ রুট। এই করিডোরের মূল লক্ষ্য হল চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ও কাঠামোগত সংযোগ স্থাপন।

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা বিসিআইএম নামে পরিচিতি পায়। ২০১৩ সালের দিকে সেই উদ্যোগ আন্তঃসরকার স্বীকৃতিও পায়।

কিন্তু চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ নিয়ে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক আপত্তি ও অনীহার কারণে পরবর্তীতে বিসিআইএম প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে।

এরপর ভারতকে বাদ দিয়ে চীন তাদের বিদ্যমান ‘চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর সম্প্রসারিত করে সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়। মূলত এটিই এখন সম্ভাব্য ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

এই করিডোর চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয় পৌঁছাবে। সেখান থেকে একটি অংশ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গন এবং অন্য একটি অংশ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

এই সংযোগটি পরে সড়ক ও রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে চীনের।

বলা হচ্ছে, এ করিডোর হলে বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে, বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ আসার সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ হবে।

পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ও লজিস্টিক হাব গড়ে ওঠার ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এই করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। চীনের ভাষ্য, রাখাইনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সেখানকার জাতিগত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *