এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা

𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎

চলতি এপ্রিল মাসে আবারও বাড়ল তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। এই মাসের শুরুতে এক দফা দাম বৃদ্ধির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হলো এই জ্বালানির দাম। নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯৪০ টাকা। আগে সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৭২৮ টাকা।

রোববার এই মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর।

এর আগে, এপ্রিলের শুরুতে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়। তার পরপরই আবার প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসে খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

শহরের অনেক পরিবার এখন বলছে, রান্নার গ্যাসের বিলই মাসিক খরচের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বিকল্প কোনো জ্বালানি নেই, তাদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 

দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বিইআরসি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে এলপিজি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক রুটের বদলে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে বেড়েছে সময় ও খরচ—দুটিই। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বীমা ও নিরাপত্তা খরচও বেড়েছে। এসব মিলিয়ে প্রতি মেট্রিক টনে পরিবহন ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে ২৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ এবং কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য ঠিক করার কথা বলেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

খুচরা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ প্রতি কেজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে তিন সপ্তাহর মধ্যে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা।

গত ২ এপ্রিল ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৮০১ টাকা। ১৯ এপ্রিলে তা বেড়ে ২০২১ টাকা করা হয়েছে। আর ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৯২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৮৯ টাকা।

বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৬১ টাকা থেকে ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০৫ টাকা থেকে ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫৯৩ টাকা থেকে ২ হাজার ৯১০ টাকা এবং ২০ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৮৮১ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৩৩ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ১৬৯ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬০১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৩২১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দামও বেড়েছে। তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম ১৪০ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটারের দাম ৩১১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৫১ টাকা হয়েছে।

আর প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।

এপ্রিলের জন্য প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৭৫০ ডলার এবং বিউটেনের ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা রয়েছে। ওই দুই গ্যাস ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপিজি হয়। তাতে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৮২ দশমিক ৫০ ডলার, যা মার্চে ছিল ৫৪১ দশমিক ৭৫ ডলার।

বিইআরসি বলেছে, এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সধারীরা বোতলজাতকরণের পর নির্ধারিত মূল্যে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে এলপিজি বিক্রি করবে এবং সেই অনুযায়ী মূসক চালান বা ডেলিভারি অর্ডার দিতে হবে।

“কোনো পর্যায়ে (এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর এবং ভোক্তাপর্যায়ে রিটেইলার পয়েন্টে) কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে এলপিজি … /অটোগ্যাস বিক্রয় করা যাবে না।”

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *