মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র সজীব

✍︎ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ✍︎

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে রোববার রাত দেড়টায় তাকে ছেড়ে দেয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সজীবকে ডিবিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বক্তব্য যাচাই বাছাই করার পর মুচলেকা নিয়ে নিয়ে রাত ১টা ৩০ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ডিবির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ তাঁকে হেফজতে নেয়। প্রথমে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় নেওয়া হয় ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, সজীবের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন পুলিশের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। 

পুলিশ সদরদপ্তর থেকে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সজীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাঁকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয় থেকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। 

এদিকে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্ম দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার একটি শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন সজীব। একই সঙ্গে বিভিন্ন কারখানার কয়েক কোটি টাকার পুরোনো মালপত্র বিনামূল্যে দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় ওই এমডিকে। তিনি বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানান। এর পরই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।  

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনারগাঁয়ের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সজীব সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার যানবাহন স্ট্যান্ড, বাজার ও মেঘনা টোল প্লাজার দখল নেন। সে সময় অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের লোক বসিয়ে মেঘনা টোল প্লাজার কয়েক কোটি টাকার টোল আত্মসাৎ করেন। তারা আরও জানান, টোল প্লাজার ইজারাদারের অভিযোগে র্যা ব তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ইজারাদার অজানা কারণে মামলার দিকে অগ্রসর হননি। 

থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ খন্দকার জানান, মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় আমার ১৫টি দোকান ছিল। আমি ৭০ হাজার টাকা ভাড়া পেতাম। এসব দখল করে নিয়েছে সজীব।  

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *