✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনায় এমপি মিষ্টির জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সংসদ সদস্য মিষ্টি।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসীকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন, এসব বিষয়ে তথ্য নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় তদন্ত চলছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ওখানে নাই। যারা ওখানে গেছে, তাদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু সেটি আমরা কখনোই আমলে নিবো না। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ওইখানে একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কী- না, সেটা তদন্তাধীন।’
সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা অন্যতম। তাঁরা ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে । ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।
