মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তুটি জর্দার কৌটা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তুটি একটি জর্দার কৌটা। এর ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার।

তিনি বলেন, “মিরপুর মেট্রো স্টেশনের নিচে যে ব্যাগটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটিতে তেজস্ক্রিয় কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। ব্যাগের ভেতরে কয়েকটি জর্দার কৌটা ছিল। প্রথমে সেগুলো দেখে ককটেলের মতো মনে হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আনুমানিক দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে। আর পুলিশ খবর পায় দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে। বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার পর থেকেই মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ২টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।

এদিকে, ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া সন্দেহজনক প্লাস্টিকের বস্তাতেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, “ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া ব্যাগে বোমাসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।”

তবে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সেটিকে স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দিতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেছেন, খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল টিম ‘অত্যন্ত দ্রুততার সাথে’ ঘটনাস্থলে যায়।

“আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তাদের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। পরীক্ষা শেষে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে কথিত বোমা সদৃশ বস্তুগুলো কোনো বিস্ফোরক ছিল না। এগুলির একটি ছিল পান-সুপারির কৌটা এবং আরেকটি পরিত্যক্ত আবর্জনা। জননিরাপত্তার জন্য কোন ধরনের হুমকি বা ঝুঁকির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।”

মিরপুর ১০ মেট্রোরল স্টেশনের সন্দেহনজনক ব্যাগে থেকে পান, সুপারি, জর্দা মিলেছে আর ফার্মগেটেরটি ছিল আবর্জনাসহ বস্তা।

গেল ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধারের প্রসঙ্গটিও টানেন তিনি। সেদিন ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা। ওই বোমাটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা হয়েছিল।

সিটিটিসি প্রধান সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, সেই ঘটনাতে তারা ‘অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং সতর্কতার সাথে’ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

“এই ধরনের যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।”

জনসাধারণকে তিনি কোন প্রকার গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

শামসুল হক বলেন, “কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে সেটিকে স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত নিকটস্থ থানা, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।”

তার মতে, যে কোনো ধরনের নাশকতা বা এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা, সচেতনতা এবং সময় উপযোগী তথ্য প্রদান ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা মিরপুর ও ফার্মগেটের এই ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু পাওয়ার খবরটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এগুলোর সাথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনার কোন যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, বলেন তিনি।

শামসুল হক বলেন, “তবে আমরা আমাদের তদন্ত অব্যাহত রাখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে পারব না। মতিঝিলের ঘটনা নিয়ে আমাদের মতিঝিল বিভাগ কাজ করছে, পাশাপাশি আমরা এবং ডিবি সবাই কাজ করছি। যখনই কোন আপডেট পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা আপনাদেরকে বলব।”

এ সময় তিনি বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে প্রেসার কুকারের মধ্যে থাকা ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করার প্রসঙ্গও টানেন।

২৪ জুলাই থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনটি মেট্রো স্টেশনের কোনো ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি, মিরপুর মেট্রো স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা রাত ৩টা থেকে বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, “এখানে আসলে রহস্যের কিছুই নেই। আমরা তো বলেছি যে মিরপুর ১০-এ যেটা পাওয়া গিয়েছে সেটাতে বোমা না এবং সেখানে ক্ষতিকর কোনো বস্তু নেই। সুতরাং এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কে রেখেছে সেটি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে এবং তদন্তের প্রক্রিয়ায় সব বের হয়ে আসবে।”

মাদারীপুর ও কেরাণীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতায় মেট্রো স্টেশনের ঘটনা কি-না জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, “মিরপুর ১০ ও ফার্মগেটের ঘটনা দুটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা গুজব হতে পারে বা জনগণের সন্দেহ হতে পারে, সন্দেহ হওয়ার কারণে এটা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং আমরা সে অনুযায়ী এটেন্ড করেছি।”

সিটিটিসির বিশেষায়িত কাজ ছেড়ে সম্প্রতি ছিনতাইকারী ধরার খবর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সিটিটিসির মূল কাজের মধ্যে বেশ কয়েকটি ডিভিশন রয়েছে। সাইবার, কাউন্টার টেররিজম এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। আমরা সবগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। এখন কাজের অংশ হিসেবে কেউ যেন আতঙ্কিত না হয় এবং শান্ত থাকে সেজন্যই আজকের এই ব্রিফিং।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি আছে বলে আমি মনে করছি না। আমাদের সোশাল মিডিয়া মনিটরিং এবং নিজস্ব গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অব্যাহত আছে।”

আসছে ৫ অগাস্ট জেল ভেঙে জঙ্গিদের পালানোর দুই বছর হচ্ছে, পলাতকদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা পালিয়ে গেছে তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমাদের কাছে তালিকা অবশ্যই আছে, তবে সেটা আমার কাছে এই মুহূর্তে নেই।”

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *