রাজশাহীতে বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি

✍︎ রাজশাহী প্রতিনিধি ✍︎

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৫ বাংলাদেশিকে পাটবোঝাই নৌকাসহ আটক করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরিবারের দাবি, ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পাট কিনে নৌকায় ফেরার সময় নদীর স্রোতে পথ ভুল করে তাঁরা ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়েন। আটকের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত জানে না পরিবার।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২৬), ইয়ানজের ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং জামাল মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। তাঁদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী ও দুজন নৌকার মাঝি-মাল্লা।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার এলাকা থেকে পাট কিনে নৌকায় ফিরছিলেন তাঁরা। নদীতে স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালানোর সময় মাঝি-মাল্লারা ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়েন। পরে বিএসএফ পাটবোঝাই নৌকাসহ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

খবর পেয়ে স্বজনেরা প্রথমে বাংলাদেশ সীমান্তের আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিরা তাদের হেফাজতে নেই। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বলেও জানানো হয়।

স্বজনেরা বিষয়টি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদকে জানান। এমপি চাঁদ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন বলে পরিবারগুলোকে জানিয়েছেন। তবে পাঁচ দিন পার হলেও আটক পাঁচজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী বলেন, ‘আপনারা আমার বাবাকে এনে দেন। বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর মতো আর কোনো মানুষ নেই। এই কয়দিন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সংসার চলছে। এভাবে কত দিন চলব, বলেন?’

কলেজছাত্র মোশাররফের বাবা গোলাম মোস্তফা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘অভাবের সংসারে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ব্যবসা করে। এবার আরও দুজন পার্টনারের সঙ্গে পাট কেনাবেচা করছিল। ছেলেটা কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।’

বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বলেন, ‘কোথায়, কেমন আছে—এটুকু জানতে পারলেও কিছুটা শান্তি পেতাম। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, আটক পাঁচজনই এলাকার পরিচিত পাট ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝি। তাঁদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তাঁরা। দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘এরা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তের ওপারে চলে গেছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা উচিত।’

আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিরা ভুল করে ভারতীয় সীমান্তের প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে বিজিবির মিডিয়া সেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সল তালুকদার বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি জেনেছি। বিজিবির সঙ্গে কথা বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *