বাজেট ২০২৬-২৭: কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। আবাসন খাতে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত মূল্য বেশি হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা থাকবে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবনা রাখতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য অর্থবিলে আলাদা একটি ধারা সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনা-বেচার প্রকৃতমূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই অপ্রদর্শিত অর্থের উপর ব্যক্তি শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত করহারে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন কোনো ব্যক্তি স্বপ্রনোদিত হয়ে এই কর পরিশোধ করলে সেই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। 

যদি অর্থ আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির এ ধরনের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের উপর প্রযোজ্য করের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য আদালতে আগে থেকেই দোষী প্রমাণিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই ধরনের সুবিধা পাবেন না।

ব্যাংকে জমা উত্তোলনে কর ছাড় চার লাখ টাকা হচ্ছে

ব্যাংকে জমা উত্তোলনে কর ছাড় আরও বাড়িয়ে চার লাখ টাকা হচ্ছে। একই সাথে একটি ঋণের বিপরীতে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও একবারই শুল্ক কাটা হবে। বর্তমানে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির ওপর শুল্ক ছাড় রয়েছে। বৃহস্পতিবার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া এই কর ছাড় বাড়ানোর প্রধান লক্ষ্য। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত জমা স্থিতির পরিমাণ এক লাখ টাকা পার হলেই আবগারি শুল্ক কাটা হতো। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাজেটে কর ছাড় বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়। এখন আরও বাড়তে যাচ্ছে।

আমানতের ওপরই কেবল আবগারি শুল্ক কাটা হয় তেমন না। আমানত, ঋণ বা অন্য যে কোনো ধরনের জমার ভিত্তিতে বছরে একবার আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি কেটে সরকারি কোষাগারে জমা করে ব্যাংকগুলো। একটি ঋণ হিসাব পরিচালনার জন্য একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও প্রতিটি হিসাব থেকে আলাদা–আলাদা শুল্ক কাটা হয়।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছর একটি ঋণ হিসাবের বিপরীতে যতো অ্যাকাউন্টই খোলা হোক একবারই শুল্ক কাটা হবে।

আবগারি শুল্কের বাইরে আমানতে অর্জিত মুনাফার ওপর আলাদা কর নেয় সরকার। এক্ষেত্রে যাদের রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র রয়েছে তাদের ১০ শতাংশ এবং যাদের নেই তাদের ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। এর বাইরে ব্যাংকগুলো সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের ফি নিয়ে থাকে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *