✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে দিনদুপুরে লোকমান (৪৫) নামের এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৭ জুন) বিকাল ৩টার পর এ ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ী লোকমান আহত হন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিল।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার।
তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে- আহত লোকমান একজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী ও রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা। তিনি মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওসি আরও জানান, লোকমানের হাতে কনুইয়ের নিচে একটি এবং হাঁটুর নিচে দুইটি গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলির দুইটি খোসা উদ্ধার করেছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ জানায়, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, টাকাগুলো হুন্ডির হতে পারে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে এখনো তাদের বিস্তারিত কথা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর মতিঝিলে জনতা ব্যাংক করপোরেট শাখার সামনে অজ্ঞাতনামা ছয়জন দুর্বৃত্ত তিনটি মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি করে। পরে তাঁর কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন।
এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ৩টি মোটরসাইকেলে করে ওই ব্যাংকটির মতিঝিল করপোরেট শাখার সামনে আসে এবং পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে টার্গেট করে হামলা চালায়। এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত টার্গেটভিত্তিক ছিনতাইয়ের ঘটনা।
গোয়েন্দাদের ধারণা, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের তথ্য আগে থেকেই দুর্বৃত্ত চক্রের কাছে থাকতে পারে— এ ধরনের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
তারা আরও সন্দেহ করছেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য এবং আগে থেকেই শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভিকটিমের গতিবিধি অনুসরণ করেছিল।
