✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
প্রতারণা, মারধর ও জুলাই যোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে জুলাই যোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন এ মামলার আবেদন করেন।আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গিয়াস উদ্দিন একজন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা ও চেক পাওয়ার জন্য তিনি বারবার ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করলেও তাঁকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাঁর কাছে অবৈধ সুবিধা দাবি করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে বেলা তিনটার দিকে গিয়াস উদ্দিন চেক নিতে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান। সেখানে তাঁর সরকারি বরাদ্দের ৩ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কৌশলে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) স্থানান্তর করা হয়। হামলায় তাঁর ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর তিনি চিকিৎসা নেন। কয়েক দিন পর রমনা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আদালতে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রমনা থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দণ্ডবিধির ৩২০, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮৫, ৫০৬ (২) ও ১০৯ ধারায় আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।
