বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন ছাত্রদলের তুহিন, সাব্বির, তোফায়েল, আকাশ ও রহিম এবং ছাত্রশিবিরের এমদাদুল হক শুভ, তামিম ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে। শিবির কর্মীদের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানে আকস্মিক তাঁদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তবে ছাত্রদল কর্মীদের দাবি, তোলারাম কলেজের অনুষ্ঠান শেষে বিনা উসকানিতে শিবির তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কলেজ সূত্র বলেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচি কেন্দ্র করে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ক্যাম্পাসের ভিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে ক্যাম্পাসে শিবিরের অদম্য জুলাই কর্মসূচি ছিল। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা জুলাইয়ের এমন প্রোগ্রামে বাধা দিয়েছে। শান্তিকামী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে উপাচার্য ও প্রক্টরের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, শিবিরের কর্মসূচিতে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল। তারা সরকারবিরোধী এবং উসকানিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এতে বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে শিবির। জুলাই আন্দোলনের পর এ ধরনের হামলা আমরা প্রত্যাশা করি না।

এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগকে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা মাত্রই ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ কল রিসিভ করেননি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *