✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং আগামী ৫০ বছরের সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সেরা অবস্থানে আছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এ সফরে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করেছে।
চীন বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের পথকে সম্মান করে এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ (কমিউনিটি উইথ আ শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফরে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল সই হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের আম চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগ সহযোগিতা সহজ করবে।
তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, সংকট সমাধানে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চীন কাজ করতে প্রস্তুত।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সফরে অর্জিত সমঝোতাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে।স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিরোধী দলে থাকাকালেও বিএনপি চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। তিনি বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ এবং রোহি
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।
